আবনা ডেস্ক: মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনপীড়নের ব্যাপক অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শরণার্থী বিষয়ে ৭টি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সংগঠনটি ট্রাম্পের এমন নীতির বিরুদ্ধে কঠোরভাবে লড়াই করতে বৃটেনের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার আফ্রিকার তিনটি ও মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী বিষয়ক সব ধরনের কার্যক্রম ১২০দিন পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন তিনি। তবে সিরিয়ার শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেন ট্রাম্প। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়ন লড়াইয়ের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসী প্রবেশ ‘পুরোপুরি এবং সম্পূর্ণভাবে’ বন্ধ করে দেবেন। তিনি গত শুক্রবার যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তা হতে পারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘স্থায়ী’ নিষেধাজ্ঞা এবং এ নিষেধাজ্ঞা আরও মুসলিম দেশের ওপর আরোপ করা হতে পারে। এমন আশঙ্কা করছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইউকে’র পরিচালক কেট অ্যালেন অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা হতাশাজনক এবং আতঙ্কজনক। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এটা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, তবু আমাদের ভয়, এ নিষেধাজ্ঞা হয়ে যেতে পারে স্থায়ী। এর আওতায় আনা হতে পারে আরও অনেক দেশকে। এই নিষেধাজ্ঞা সেই ধারার মাত্র সূচনা। তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখন আমরা সবচেয়ে কঠিন শরণার্থী পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র তার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। যে মূল্যবোধকে আমরা সমর্থন করি তার পক্ষে আমাদের অবস্থান নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে আমরা বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো (ট্রাম্পের) এই নীতি পরিবর্তনের জন্য ও এর বিরোধিতায় ক্ষমতার সবটুকু ব্যবহার করুন। রোববার হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রিবাস সিবিএস নিউজের ফেস দ্য নেশন অনুষ্ঠানে বলেছেন, ওই ৭টি দেশের বিরুদ্ধে দেয়া নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়তে পারে। কংগ্রেস ও ওবামা প্রশাসন এই সাতটি দেশকে সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এ জন্যই আমরা তাদেরকে টার্গেট করেছি। এখন অন্য যেসব দেশে একই রকম সমস্যা আছে তাদের দিকে আপনি চোখ ফেরাতে পারেন। তাদের বিরুদ্ধে এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে। এমন দেশের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান ও আরও কিছু দেশ। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট নিষিদ্ধ ৭টি দেশের ভিসা নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তারা সবুজ সংকেত দেয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই দেশগুলোর বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞাকে অস্থায়ী বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। ওদিকে প্রিবাসের মুখে পাকিস্তানের নাম উঠে আসায় পাকিস্তানে ক্ষোভ দেখা দিযেছে। ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির রাজনীতিক সৈয়দ খুরশিদ শাহ বলেছেন, বিষয়টি পরিষ্কার যে ডনাল্ড ট্রাম্প সন্ত্রাসীদের নয়, তিনি টার্গেট করছেন মুসলিমদের। এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে বৃটেনে। সেখানে টরি দলের নেতা ও সাবেক কনজার্ভেটিভ মন্ত্রী ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ারসি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিবিসি রেডিও ৪-কে বলেছেন, ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে ট্রাম্প ওই নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন এবং এটা শুধু তার সে ধারার সূচনামাত্র। তিনি বলেন, এটা হলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা। যেকোনো অর্থে এটা মুসলিম বিরোধী নিষেধাজ্ঞা। যদি আমরা বলি এটা মুসলিম বিরোধী নিষেধাজ্ঞা নয় তাহলে বলেতে হবে এটা হলো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর মানুষদের ওপর নিষেধাজ্ঞা। এতে ছাড় দেয়া হয়েছে অমুসলিমদের। অ্যামনেস্টির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ওয়ারসি বলেন, এ নির্দেশ বাতিল করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর অধিক পরিমাণে চাপ সৃষ্টি করতে হবে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ও বৃটিশ সরকারকে। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক ক্রান্তিকালে অবস্থান করছি। আমরা কেমন দেশ চাই তা নির্ধারণের সময় এটা। যদি আমরা উদার, প্রগতিশীল মূল্যাবোধকে অনুমোদন দেয়া দেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষের সমান সুযোগ, সম্মান থাকবে তাহলে আমাদেরকে একটি বিষয় পরিষ্কার করতে হবে। তা হলো আমাদেরকে পরিষ্কার করতে হবে আমরা ট্রাম্পের নীতি অনুসরণ করছি কিনা।
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ - ১৬:১৩
News ID: 808743
মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনপীড়নের ব্যাপক অভিযানের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শরণার্থী বিষয়ে ৭টি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।